রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন
আমি এখানে আসতে পেরে খুব আনন্দিত। এমন একটি উদ্যোগকে স্বাগত না জানানোর কোনো উপায় নেই। আজকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা বিশেষ দিন। কারণ তারা যে কাজটা করেছে তা আমি নিজেও চিন্তা করতে পারিনি।
’আমাদের জাতির পিতা নিজেও একজন ভালো ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। তার বাবাও স্বনামধন্য ফুটবলার ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ্যপুত্র শহীদ শেখ কামাল বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের জনক। শুধু ফুটবল নয়, তিনি ক্রিকেট ও বাস্কেটবলও ভালো খেলতেন। সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত ছিলেন। শহীদ শেখ জামালও কৃতি খেলোয়াড় ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবারই প্রত্যক্ষভাবে ক্রীড়াঙ্গনের সাথে জড়িত’- যোগ করেন পাপন।
তিনি আরও বলেন, এমকে স্পোর্টসকে আইসিসি ইতোমধ্যে ক্রিকেট ব্যাট তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশেই এখন থেকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ব্যাট তৈরি হবে জেনে আমি সত্যি গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেকদূর এগিয়ে যাবে। স্বল্প মূল্যে আমাদের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটসামগ্রী পাবে। কাস্টমাইজড করা যাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এমকেএস স্পোর্টস আন্তর্জাতিক মানের একটি ব্রান্ডে পরিগনিত হবে। বাংলাদেশে তৈরি স্পোর্টস ইকুইপমেন্ট বিদেশে রপ্তানি হয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। তাই এমন ভালো উদ্যোগের জন্য এই কাজের সাথে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এর আগে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। এরপর কোম্পানিফ ব্যাট নিয়ে র্যাম্প শোয়ে অংশ নেন যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলীসহ আরও ৫ ক্রিকেটার- পারভেজ হোসেন ইমন, মাহমুদুল হাসান জয়, তানজীদ হাসান তামিম, রিশাদ হোসেন, রাকিবুল হাসান।
বক্তব্যে ইমরুল কায়েস বলেন, আসলে আমি বাংলাদেশের হয়ে খেলার সময় এই স্বপ্ন দেখেছিলাম। শিহাব ভাইয়ের কথা জানতে পারার পর উনার সাথে যোগাযোগ করি। এরপর ২-২.৫ বছরের প্লান করে আজকের এই অবস্থায় এসেছি। আমরা দেশের প্রতিটি জেলার প্রতিটি প্লেয়ারের পাশে থাকার চেস্টা করব। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারি।
সত্যিই খুব গর্বিত যে বাংলাদেশ ব্যাট ম্যানুফেকচারিং করছে। আমার এখনও মনে আছে, একসময় আমরা অন্য দলের ড্রেসিংরুমে গিয়ে ক্রিকেটারদের কাছে ব্যাট চাইতাম। অনেক সময় ওরা মুখের ওপর না করে দিত। এমন না যে ব্যাট কেনার টাকা আমাদের নেই, ব্যাপারটা হল আমরা ভালো ব্যাট পাই না। পাকিস্তান, ভারত থেকে ব্যাট কিনে খেলতে হয়। কিন্তু এখন বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে, এটা দারুণ উদ্যোগ। আমি আশা করি, এমকেএস এই অভাবটা দূর করবে।
সাকিব আল হাসান বলেছেন, ওদের ব্যাট আমার এখনও ব্যবহার করার সুযোগ হয়নি। ওরা বলেছে আমাকে একটা ব্যাট দিবে। এই প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে ইমরুল। সে নিজের ইংল্যান্ডে গিয়ে কাঠ দেখে নিয়ে আসছে। শাহিন ভাই তো ব্যাট বানাচ্ছে আর মিরাজ শুধু বিনিয়োগ করেছে। আশা করছি বাংলাদেশ ক্রিকেট এটা থেকে বেশ উপকৃত হবে।
এমকেএস ব্যাট বাংলাদেশে নতুন মাত্রা দিবে বলে বিশ্বাস জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনের, ‘আমি খুব গর্বিত যে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ২৩-২৪ বছরে এসে ব্যাট তৈরি হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি এমকেএস বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন মাত্রা দিবে। আশা করব, তারা দেশের নাম উজ্জ্বল করবে’
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, আমার খুব আনন্দ লাগছে যে, আমাদের দেশে এখন আন্তর্জাতিক মানের ব্যাট তৈরি হবে। মিরাজ-কায়েসরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে যে সাহসের পরিচয় দিয়েছে, আমি তাদের সাফল্য কামনা করি।
উদ্যোগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আফতাব শাহিন স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, এই ভেবে আনন্দ লাগছে যে, ২৪ বছর যে স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম তা আজ সত্যি হয়েছে। আগে স্পন্সর ছাড়া দেশে ভালো ব্যাট আসত না। যা আমার মনে খুব কষ্ট দিয়েছিল। এরপর আমি এটা নিয়ে অনেকদিন যাবত রিসার্চ করেছি। পরে কায়েস ভাই ও মিরাজকে নিয়ে এই কোম্পানির যাত্রা শুরু করি।
গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের প্রথম ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক হিসেবে আইসিসি থেকে স্বীকৃতি পায় এই প্রতিষ্ঠান। জাতীয় ক্রিকেটার মেহেদি হাসান মিরাজের (এম), ইমরুল কায়েসের (কে) এবং ব্যাট যিনি কাস্টমাইজ করবেন বা তৈরি করবেন সেই আফতাব শাহিনের (এস) নামের প্রথম অক্ষর মিলিয়ে এই ‘এমকেএস’ নাম রাখা হয়েছে।
আইসিসি থেকে ‘এমকেএস স্পোর্টস’ নামে অনুমোদন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে ব্যাট নিয়ে ক্রিকেট বাজারে আত্মপ্রকাশ করেছে তারা। আপাতত হ্যান্ড গ্লাভসও আছে তাদের। দ্রুতই বল প্রস্তুতে পা বাড়াতে এমকেএস।
দেশের প্রথম ব্যাট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি বিশেষত্ব হলো ইংলিশ উইলো। সেরা মানের বিভিন্ন ধরনের ইংলিশ উইলো বাছাই করে আনা হচ্ছে ব্যাট প্রস্তুতের জন্য। ক্রিকেটারদের তাই বিদেশি মানের ব্যাট নিয়ে আর দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না। ইতোমধ্যে ২০২৪ যুব বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটার ও নারী ক্রিকেটারদের এই কোম্পানির ব্যাট উপহার দিয়েছেন ইমরুল-মিরাজরা।
নতুন হলেও ইতিমধ্যে এমকেএস ব্যাটের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে দেশের বাজারে। দেশে বিক্রির আগেই ইংল্যান্ড থেকে অর্ডার আসছে ব্যাটের। শুধু ব্যাট কেনাই নয়, পছন্দ মতো অর্ডার করেও ব্যাট পাবেন যে কেউ। রাজশাহীতে তৈরি করা কারখানায় এর কার্যক্রম চলছে। ক্রিকেট বলের ব্যাটের পাশাপাশি দ্রুত টেপটেনিস বলের ব্যাটও বাজারে আনবে প্রতিষ্ঠানটি।